পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে এখনো অর্থ, গ্যাস ও নিরাপত্তার সংকট

পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে এখনো অর্থ, গ্যাস ও নিরাপত্তার সংকট

দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে এখন ‘অর্থ, গ্যাস ও নিরাপত্তার সংকট’ বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। আগামীতে সংকট আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

আর এসব সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোবকাবিলায় এ খাতের উদ্যোক্তা ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমইএ) ২০২৬-২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সামনে রেখে ঐক্য পরিষদের প্যানেল পরিচিতি উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, দেশের শিল্প খাতের সামনে আগামী দিনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশের) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর স্থানীয় শিল্পকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে মূল্য সংযোজন (ভ্যালু অ্যাডিশন) বাড়ানোর বিকল্প থাকবে না।

তিনি বলেন, ‘২০২৯ সালের পর ন্যূনতম ৪০ শতাংশ ভ্যালু অ্যাডিশন করতে হবে। কিছু কিছু দেশে ৬০ শতাংশ পর্যন্তও করতে হবে। এখন থেকেই প্রস্তুতি না নিলে শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, দেশের অ্যাকসেসরিজ ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে যথাযথ নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। অন্যথায় স্থানীয় উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘অর্থের সংকট, গ্যাসের সংকট, নিরাপত্তার সংকট— এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমইএসহ বিভিন্ন সংগঠন এখন অনেক বিষয়ে যৌথভাবে সরকারের কাছে প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরছে। এতে শিল্প খাতের অভিন্ন স্বার্থ আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এক মায়ের তিন সন্তান। আমাদের লক্ষ্য একটাই— রপ্তানি বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও দেশে ধরে রাখা। উদ্দেশ্য যদি এক হয়, তাহলে বিভক্ত হওয়ার সুযোগ নেই।’

সরকারের বিভিন্ন নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার বিষয়েও তিনি বলেন, শিল্প খাতে সহায়তা দিলে সরকারও দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হবে। এ বিষয়টি যৌথভাবে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বিপিএমইএ ২০২৬-২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আগামী ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। এবার এই সংগঠনের ২৭ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের জন্য মোট ২৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।

বিপিএএমইএ পর্ষদের পদগুলো হলো- সভাপতি, ছয়জন সহ-সভাপতি ও ২০ জন পরিচালক। মনোনয়ন প্রত্যাহার শেষে ঐক্য পরিষদ প্যানেলের ছয়জন সহ-সভাপতি ও ১৫ জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।