আদালতের নির্দেশের পরও গ্যাস সংযোগ দিতে অস্বীকৃতি তিতাসের
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গ্যাস সংযোগ পুনঃস্থাপন না করার অভিযোগ উঠেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান থারমেক্স ট্রেড লিমিটেড এর মালিক রানা চৌধুরী জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১০ শতাংশ বকেয়া অর্থ পরিশোধ করার পরও এখনো সংযোগ দেয়া হয় নি। গ্যাস সংযোগের অভাবে বন্ধ পড়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আদালতের আদেশে বলা হয়, মোট বকেয়া প্রায় ৪ কোটি ৫ লাখ টাকার ১০ শতাংশ অর্থ জমা দিলে এবং অবশিষ্ট অর্থ নির্ধারিত কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে এক মাসের মধ্যে গ্যাস সংযোগ পুনঃস্থাপন করতে হবে। সেই অনুযায়ী থারমেক্স কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করে তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও সংযোগ না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ পড়ে রয়েছে।
থারমেক্সের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, “আমরা আদালতের নির্দেশ মেনে ১০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করে তিতাস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেয়াজ পারভেজ এর শরণাপন্ন হলেও তিনি পুনরায় গ্যাস সংযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। যা সরাসরি আদালতের আদেশ অমান্যের শামিল।”
এদিকে, একই ধরনের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশের পর দ্রুত গ্যাস সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছে সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিতাস গ্যাসের বিরুদ্ধে বর্তমানে প্রায় ১,৫০০টি রিট মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংযোগ সংক্রান্ত জটিলতায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এতে একদিকে যেমন বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা যেতে পারে।তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর দায়িত্বে থেকে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ বাস্তবায়নে ব্যর্থতা গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত ১০ শতাংশ অর্থ পরিশোধের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্যাস সংযোগ পুনঃস্থাপন বাধ্যতামূলক হলেও তা কার্যকর না হওয়া প্রশাসনিক অবহেলা নাকি ইচ্ছাকৃত গাফিলতি—এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। একই ধরনের অন্য প্রতিষ্ঠানে দ্রুত সংযোগ প্রদান করা হলেও থারমেক্সের ক্ষেত্রে বিলম্ব বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়, যা নীতিগত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতিকে সামনে আনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিতাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর এ ধরনের আচরণ শুধু আদালতের নির্দেশের প্রতি অবজ্ঞাই নয়, বরং শিল্পখাতের জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা।
পরিস্থিতি বিবেচনায় থারমেক্স ট্রেড লিমিটেড ইতোমধ্যে আদালত অবমাননার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
admin